পুঁজিবাদে নারীর শোষণ-নিপীড়নের সামাজিক ভিত্তি

জাহানারা নূরী

মূল স্তেফান এঙ্গেল ও মনিকা গার্টনার

[ পূর্ব প্রকাশিতের পর ]

বুর্জোয়া পারিবারিক ব্যবস্থার দীর্ঘস্থায়ী সংকট

চাকরীতে নারীর ক্রমবর্ধমানহারে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ ‘গৃহিণী-বিয়ের’ ধারণার ভিত্তিটাকেই নড়বড়ে করে দিচ্ছে।
১৯৭০ সালে যুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি তার শিখরে পৌঁছায়। সংকটটি আরও ব্যাপকতর হওয়ার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করতে একাধিপত্যবাদীরা তিন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে: পুঁজি জড়ো করা, নতুন টেকনোলজিকে গ্রহণযোগ্য করা, এবং পুঁজির ক্রমবর্ধমান রপ্তানী। শ্রমজীবীদের অবস্থানের উপর এসবের ব্যাপক এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ে। (ডরষষর উরপশযঁঃ , ঈৎরংবং ধহফ ঈষধংং ঝঃৎঁমমষব, ঊংংবহ, ১৯৮৬, ঢ়.১৯২)
১৯৭০ থকে ১৯৭৬ পর্যন্ত কেবলমাত্র এই তিনটি পদক্ষেপের কারণে ১.১৭ মিলিয়ন চাকরীর সুযোগ নষ্ট হয়। সৃষ্টি হয় দীর্ঘস্থায়ী গণ বেকারত্ব। পাশাপাশি তথাকথিত সার্ভিস সেক্টরে ৭,৫০,০০০ নতুন চাকরী সৃষ্টি হয় এবং তাতে নারীদেরই অধিকাংশক্ষেত্রে নিয়োগ দেয়া হয়। ১৯৮৯ সালে এ বিষয়ে জার্মান এমপ্লয়ার্‌স্‌ এসোসিয়েশনের ন্যাশনাল কনফেডারেশন (বিডিএ) মন্তব্য করে;

প্রশিক্ষিত নারীদের দীর্ঘদিন উপেক্ষা করে থাকাটা ব্যবসার ক্ষেত্রে পোষায় না। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে জেন্ডার নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে তাদের কর্মকর্তা কর্মচারীদের দক্ষতা ও সামর্থ্যের চূড়ান্ত সমাবেশন ও ব্যবহারই যুক্তিসঙ্গত। (ঈযধহপবহ ভহৃৎ ঋৎধঁবহ রহ ফবৎ ডরৎঃংপযধভঃ [ঙঢ়ঢ়ড়ৎঃঁহরঃরবং ভৎড় ডড়সবহ রহ ওহফঁংঃৎু ধহফ ঞৎধফব], উবঁঃংপযবৎ-ওহংঃরঃঁং-ঠবৎষধম, ঈড়ষড়মহব,১৯৮৯, ঢ়.৩০)

মাইক্রোইলেকট্রনিক এবং সম্পূর্ণ যন্ত্রনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার প্রসারে, শিল্পকারখানার এবং প্রশাসনে গণভাবে নারীদের সম্পৃক্তি সুসম্পন্ন হয়। ক্রমবর্ধমান হারে শারীরিক শ্রমনির্ভর কাজগুলো এভাবে চালানো সুসম্পন্ন হয়। গণ উৎপাদনস্থানে মেয়েদের বেশি সম্পৃক্ত করার সুযোগ তৈরী করা হয়।
বিডিএ’র মতে,

নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার...শারীরিক বোঝা কমায়...এবং সে কারণেই নারীর চাকরীর সুযোগ বাড়ায়। আজকাল আর পেশির চাহিদা নেই, বরং এখন মাথা, স্পর্শকাতর আঙ্গুল এবং সৃজনশীলতার দরকার, এবং নারীরও এসব ততটুকুই আছে যতটুকু পুরুষের মধ্যে পাওয়া যায়। (ওনরফ, ঢ়.১৭)

কর্মঘণ্টার নমনীয়তা, সাধারণভাবে মজুরী কমানো এবং তথাকথিত নিয়োগবৈরী আইন কানুনের সংস্কার ক্ষেত্রে পুঁজিপতিরা নারীকে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা দিয়েছে। ক্রমনিবিড় শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে শ্রমজীবী শ্রেণীর প্রতিরোধ এড়াতে নারীর দ্বিগুণ কর্মভারের বিতর্কগুলো হয়ে উঠেছে একাধিপত্যবাদী সংস্থাগুলোর প্রধান প্রোপাগান্ডা :

কারিগরি ব্যবস্থায় ঘনঘন উচ্চ পুঁজি বিনিয়োগ দরকার হয় ফলে যন্ত্রপাতিকে সুদে আসলে বেশী সময় খাটিয়ে নেয়া দরকার হয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ পারিবারিক ব্যবস্থার অনুকূল খণ্ডকালীন চাকরী আরও অধিক সংখ্যক কোম্পানীর কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে...ভবিষ্যতে কর্মচারী-পরিকল্পনা জোর বিবেচনায় রাখতে হবে নতুন শ্রম-সময় কাঠামো নির্ধারণ অর্থাৎ খণ্ডকালীন চাকরী, নমনীয় কর্মকাল, কাজের সময়ে নমনীয়তা ইত্যাদি সুযোগ রাখার বিষয়গুলো। এসব কেবল পরিবারের কাছেই যে অত্যন্ত উপযোগী বিষয় হয়ে উঠেছে তাই নয় অনেক কোম্পানীরই তা কর্মঘণ্টা নীতিমালার অন্যতম উপাদান। (ওনরফ, ঢ়ঢ় ২১, ২৪)

খণ্ডকালীন চাকরীর সমপ্রসারণ কর্মঘণ্টা নমনীয় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি, যার পরিণতি তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যায় পূর্ণকালীন চাকরীর সুযোগ কমে যাওয়া। পশ্চিম জার্মানীতে ১৯৮০ ও ১৯৯০ এর মধ্যে ১২,৯৩,০০০ নতুন চাকরী সৃষ্টি করা হয় যার শতকরা ৭৯.৬ ভাগই খণ্ডকালীন চাকরী এবং তা কেবলমাত্র নারীদের জন্য। ১৯৯৭-এর অফিসিয়াল উপাত্তে দেখা যায় ৫.৭ মিলিয়ন খণ্ডকালীন কর্মচারীর শতকরা ৮৮ ভাগই নারী (ঋবফবৎধষ ঝঃধঃরংঃরপং ঙভভরপব চৎবংং জবষবধংব ড়ভ অঢ়ৎরষ ২২, ১৯৯৮) কিন্তু এই অফিসিয়াল প্রতিবেদনেও আসল তথ্য অপ্রকাশিত। ১৯৯৬ এর জার্মান বিজনেস ইন্সটিটিউটের একটি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে কেবলমাত্র ঐ বছরেই ৫.৪ মিলিয়ন কর্মচারী তথাকথিত প্রান্তিক খণ্ডকালীন চাকুরে হিসেবে কাজ করেছে এবং তাদের চুক্তি ছিল ৬২০ ডয়েস মার্ক সীমার ভেতর। বাস্তবে এ ধরনের চাকরী ছিল মোট ৬.৭ মিলিয়ন আর চাকুরেদের অনেকেই একাধিক চাকরী করতে বাধ্য হচ্ছিলেন। (ডড়পযবহনবৎরপযঃ, ঘড়.৩৮, ১৯৯৭, উবঁঃংপযবং ওহংঃরঃঁঃ ঋহৃৎ ডরৎঃংপযধভঃ, ইবৎষরহ).
ঘনঘন আর ও বেশী হারে নারীদের খণ্ডকালীন কাজে নিয়োগ করা হতে থাকে সীমিত সময়ের জন্য এবং সেসব চাকরী ১৯৮৫র তথাকথিত এমপ্লয়মেন্ট প্রোমোশন এ্যাক্টে প্রয়োজনীয় বিশেষ নমনীয়তার শর্তাধীন। ১৯৯৫ সালে তখনও পশ্চিম জার্মানীতে শতকরা ৪৩.৮ ভাগ নারী (শতকরা ৬৩ ভাগ পুরুষ) ‘স্বাভাবিক নিয়োগচুক্তি’র অধীন; অর্থাৎ তাদের তখনও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় নাই, সাময়িক চাকরীও সেটি নয়। ১৯৮৫ সালে এ সংখ্যা ছিল শতকরা ৪৮.৫ ভাগ। (ওঅই-কঁৎঃুনবৎরপযঃ, ঘড়. ২, ১৯৯৮, ঈড়হফবহংবফ ৎবঢ়ড়ৎঃ ড়ভ ঃযব ঋবফবৎধষ ঙভভরপব্থং ওহংঃরঃঁঃব ভড়ৎ ঊসঢ়ষড়ুসবহঃ জবংবধৎপয).
কর্মঘণ্টার নমনীয়তার আরেকটি দিক হলো রাতের শিফটের ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনের কাজে নারীদের নিয়োগ সম্প্রসারণ। ১৯৮৯ সালে বিডিএ শ্লোগান তুললো, ‘শেষ আইনী বাধাটা দূর করো’। তারা দাবী তুললো যে নারীকর্মীদের নিয়োগবিরোধী সকল প্রতিবন্ধকতা এবং রাতের শিফটে কাজ করার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। (ঈযধহপবহ ভহৃৎ ঋৎধঁবহ রহ ফবৎ ডরৎঃংপযধভঃ, ঢ়ঢ়. ৫১-৫৩). জার্মান ফেডারেল পার্লামেন্ট ১৯৯৪র জুলাইয়ে প্রণীত কর্মঘণ্টা বিষয়ক আইনে এ ইচ্ছার সাথে ঐকমত্য পোষণ করে।

চাকরী এবং পরিবারের ভারসাম্যপূর্ণ সহাবস্থানের পতন

নিয়োগকর্তার ইচ্ছার সাথে ভারসাম্য রেখে নারীদের নিয়োগ বাড়ানোর প্রচারে ‘রাষ্ট্রীয় নারী এবং পরিবার নীতিমালা’কে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হলো চাকরী ও পরিবারের ভারসাম্যপূর্ণ সহাবস্থানের কথা বলে। ১৯৮৬ সালে স্থাপিত হলো ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইয়ুথ, ফ্যামিলি এ্যান্ড হেলথ। প্রথম মন্ত্রী হয়ে অফিসে বসার আগেই রিতা সাসমুথ তাঁর মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকার বিষয়গুলো চিহ্নিত করে নিলেন এই বলে;

আমরা নারীনীতির ঐ দিকটিকে অগ্রাধিকার দেব যেখানে নিয়োগ পুনঃসংযোজনের কথা বলা হয়েছে, নিয়োগবিরোধী প্রতিবন্ধকতার কথা বলা হয়েছে এবং আরও বেশি করে খণ্ডকালীন চাকরীর সুযোগ সৃষ্টির কথা রয়েছে। (ছঁড়ঃবফ রহ : এরংবষধ ঐবষরিম, ঋৎধঁ ধহফ ঋধসরষরব, ইঁহফবংৎবঢ়ঁনষরশ উবঁঃংপযষধহফ-উউজ [ডড়সবহ ধহফ ঃযব ঋধসরষু, ঋজএ াং. এউজ] ঠবৎষধম ডরংংবহংপযধভঃ ঁহফ চড়ষরঃরশ, ঈড়ষড়মহব, ১৯৮৭, ঢ়.১৮)

১৯৬৯ থেকে ১৯৮১তে ইতিপূর্বে ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখা হতো এমন অসংখ্য পারিবারিক বিষয় ইতিমধ্যে লিবারেল সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট কোয়ালিশন সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাচ্ছে। অধিকহারে কিন্ডারগার্টেন, পূর্ণদিবস বিদ্যালয় স্থাপন চলছে এবং বৃদ্ধ ও অসুস্থদের সেবাযত্নকেন্দ্র সমপ্রসারিত হয়েছে। আংশিকভাবে গণ কর্মসূচীর মাধ্যমে ক্রমে দৃশ্যমান হয়ে-ওঠা বুর্জোয়া একক পরিবারের সীমবদ্ধতাগুলো আড়াল করতে প্রশিক্ষণ ও নিয়োগ দেয়া হয়েছে হাজার হাজার সমাজসেবী এবং সমাজসেবা শিক্ষক। গণ যোগাযোগ ব্যবস্থা কর্মচারীদের গতিশীলতাও বাড়িয়ে দিল।
সে যাই হোক, এসব সরকারী পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অপ্রতুল হয়ে থাকল। ১৯৮০ দিবাকালীন নার্সারীগুলো তিন বছর বয়সী শিশুদের মাত্র শতকরা ১.৪ ভাগ ধারণ করতে সমর্থ ছিল। অপরদিকে ৩-৬ বছর বয়সী শিশুদের মাত্র শতকরা ৭৫ ভাগ কিন্ডারগার্টেনে যেতে পারল। (ঊসধহুরঢ়ধঃরড়হ রহ ফবৎ শৎরংব? [ঊসধহপরঢ়ধঃরড়হ রহ পৎরংরং?] চঁনষরংযবফ নু ঃযব ডড়সবহ্থং ওংংঁব ড়িৎশরহম মৎড়ঁঢ় ড়ভ ঃযব ওহংঃরঃঁঃব ভড়ৎ গধৎীরংঃ ঝঃঁফরবং ধহফ জবংবধৎপয, চষধসনবপশ ্‌ ঈড় ঠবৎষধম, ঘবঁংং, ১৯৮৬, ঢ়.৩৮)
গৃহস্থালীর কাজ, শিক্ষা ও সেবাযত্ন এবং এমন অনেক কাজের ব্যক্তিগত রূপটাতে মৌলিক কোনও পরিবর্তন ঘটানো হলো না। শুরু থেকেই সরকারী কর্মসূচী সাজানো হয়েছিল পরিবারের পরিপূরক কর্মসূচী হিসেবে। চাকরী এবং পরিবারের ভারসাম্যপূর্ণ সহাবস্থানের বিষয়টি এভাবে শুরু থেকেই কাল্পনিক কথায় পর্য্যবসিত হয়। সেটা হয়ে ওঠে নারীদের সাথে প্রতারণা। পরিণতিতে ব্যাপারটি গণহারে কর্মজীবী মা এবং প্রায়শঃই গোটা পরিবারের সহ্য শক্তির দীর্ঘ পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়।
কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমনিবিড় শোষণ, যা অধিকহারে নারীর সংশ্লিষ্টতা বাড়ানোর অন্যতম উদ্দেশ্য, পরিবারের উপর প্রভাব ফেলে। হ্যানোভার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক স্টাডি দেখিয়েছে: ১৯৯৪ সালে ভঙওয়াগেনে চারদিন সাপ্তাহিক ছুটি প্রবর্তনের পর কর্মঘণ্টার নমনীয়তার সাথে সাথে হারানো কর্মঘণ্টার জন্য বেতন বৃদ্ধি না করার ফলে ১৯৯৬ সালের মধ্যে উলফ্‌স্‌বার্গ রোজ শহরে তালাকের ঘটনা বেড়ে দাঁড়ায় শতকরা ৬০.২।
কর্মীদের মধ্যে যারা স্বাভাবিক কর্মঘণ্টাসহ চারদিনের সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করেছেন তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ঘটেছে উল্টো: সেক্ষেত্রে পুরুষ গৃহ ও সন্তানাদির দেখাশোনা বেশী করেছে এবং নারীকে তুলনামূলকভাবে কম চাপ সইতে হয়েছে। (সবঃধষষ ঘড়. ৯. ১৯৮৮; উবৎ ঝঢ়রবমবষ, ঘড়. ৪০,১৯৮৮, ঢ়. ১০৭)
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে ব্যক্তিগত পর্যায়ে গৃহস্থালীর কর্মকাণ্ডের উপর যেসব সুনির্দিষ্ট দাবী আরোপ করা যেত তা বদলেছে। খাদ্য প্রস্তুতকারক ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নির্মাতাদের জন্য লাভজনক একটি বাজার তৈরী হয়েছে। জমানো খাবার ও আধা কি পুরো রান্না খাবারে বাজার সয়লাব হয়ে উঠেছে; তার পাশাপাশি বাজারের গৃহস্থালীর সরঞ্জামের সমাবেশে রান্নাঘর ও ঘর-গৃহস্থালিতে এক রকম কারিগরি বিপ্লবই ঘটে গেছে বলা চলে। এসব বিশেষ করে নারীর কাজের চাপ কমিয়েছে, এবং শ্রম বাজারে সস্তা শ্রমের অবমুক্তি ঘটিয়েছে। সত্তরের দশকে গৃহস্থালীর প্রযুক্তি পরিস্থিতি ফুলে ফেঁপে ১৯৯৩তে তুঙ্গে ওঠে। ফেডারেল স্ট্যাটিসটিক্যাল অফিসের ভাষ্যমতে:

১৯৯৩ সালের জানুয়ারী মাসে “ক্লাসিক” গৃহস্থালী প্রযুক্তিতে জার্মানীর ঘরগুলো পূর্ণ করে তোলাটা সম্পন্ন হয়। (উধঃবহৎবঢ়ড়ৎঃ, ১৯৯৭, চঁনষরংযবফ নু ঃযব ঋবফবৎধষ ঈবহঃৎব ভড়ৎ চড়ষরঃরপধষ ঊফঁপধঃরড়হ, ইড়হহ, ১৯৯৭, ঢ়.১২৩)

ব্যক্তিগত গৃহস্থালীর কারিগরিকরণ কোনোক্রমেই বিলাসিতা ছিল না, ছিল সামাজিক শ্রমের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির অন্যতম উপাদান। কিন্তু একইসাথে তা শ্রমজীবী পরিবারগুলোর জীবন-জীবিকার খরচ বাড়িয়ে দিয়েছিল। নারীর কর্মজীবনে নিয়োগ যে অতিরিক্ত আয়ের কথা ভেবে নিজস্ব আয়ের মাধ্যমে যে সামান্য অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ভাবনা, তা এর ফলে কেচে গিয়েছিল। কার্ল মার্কস পুঁজি’তে এ বিষয়টির আইনী চরিত্রের দিকে ইঙ্গিত করেছেন এই বলে:

যেহেতু কিছু পারিবারিক কাজ যেমন সেবা ও শিশুকে স্তন্য পান করানো কিছুতেই পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না, পুঁজির হাতে অবরুদ্ধ মায়েদের কোনও না কোন বিকল্প চেষ্টা করতে হবে। সেলাই ও মেরামতের মতো গৃহস্থালীর কাজগুলোর জায়গা পূরণ হবে তৈরী জিনিস কেনা দিয়ে। ফলে পরিবারে ক্রমে ক্ষীয়মান গৃহস্থালী শ্রম খরচের সহযোগী হয় ক্রমবর্ধমান অর্থ খরচ। বর্ধমান আয়ের সাথে সঙ্গতি রক্ষা করে পরিবার নির্বাহের খরচ বৃদ্ধি পায়। (গধৎী, ঈধঢ়রঃধষ, ঠড়ষ. ১, ঢ়. ৩৯৫, ভড়ড়ঃহড়ঃব)

১৯৭৫ সাল থেকে শুরু হয়ে ১৯৮০তে পড়ে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আসল মজুরী ও বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে খুব ধীরে ক্রাইসিস অ্যান্ড ক্লাস স্ট্রাগল গ্রন্থে উইলি ডিকহাট লিখেছেন:

১৯৮০র শুরুর দিকে বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকট যখন মাত্র দেখা দিচ্ছে, একাধিপত্যবাদী সংস্থাগুলো তখন তাদের বেতন এতখানি সঙ্কুচিত করে ফেলে যাতে পরোক্ষভাবে মূল বেতনই থাকে না। মোটামুটি বেতন সামান্য বৃদ্ধি পেলেও তা তুলনায় দ্রব্যমূল্যের আকাশচুম্বী বৃদ্ধির সাথে তাল রাখতে ব্যর্থ হয়। বহু শ্রমজীবীর জীবনযাপন মানের অবনতি ঘটে; কিছু কিছু পরিবার এমনকি ভীষণ দারিদ্র্য ও কষ্টের মধ্যে পড়ে যায়। (ডরষষর উরপশযঁঃ, ঈৎরংবং ধহফ ঈষধংং ঝঃৎঁমমষব, ঢ়.২০৮)

১৯৭০ এবং ১৯৯৫ সালের ভেতর গড়ে চারজনের একটি নীল কিম্বা সাদা কলার-শ্রমিক পরিবারের পারিবারিক খরচ শতকরা ৫৪.১ ভাগ বৃদ্ধি পায়; সত্যিকার বেতন বৃদ্ধি ঘটে শতকরা ১৫.৩ ভাগ শ্রমজীবী পরিবারের শ্রমশক্তি উৎপাদন ও পুনরুৎপাদনে নারী-পুরুষ উভয়ের চাকরী করাটা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায়।
১৯৭৫এ নারীর নিয়োগ আরেক দফা বৃদ্ধি পায়। ১৯৯০তে এর সংখ্যা ৯ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ১১.৭৫ মিলিয়ন। শ্রম শক্তিতে শতকরা ৩৯.২ ভাগ নারীর অংশগ্রহণের মাত্রা এফ আর জিতে এক অজানা স্তরে উঠে যায়। বিশেষ করে বিবাহিত নারীর নিয়োগ অনানুপাতিক হারে বৃদ্ধি পায়,এবং এ সংখ্যা ১৯৭০এর পর সাধারণভাবে নারীদের নিয়োগ হার অতিক্রম করে যায়।
মজুরীভিত্তিক শ্রমের ওপর অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি সম্ভাব্য স্বাধীন জীবন ও জীবিকা অর্জনের জন্য নিজস্ব আয়ের (ও পেনশন ভোগের) আকাঙ্ক্ষা ক্রমবর্ধমানসংখ্যক নারীর ভেতর বেড়ে ওঠে। নারীরা আরও বেশি করে সামান্য গৃহিণীর ভূমিকায় অসন্তুষ্ট হয়ে পড়ে। তারা নতুন সামাজিক যোগাযোগ স্থাপনে ও অভিজ্ঞতা অর্জনে আগ্রহী হয়ে ওঠে। খুঁজতে থাকে জ্ঞান ও দক্ষতা। পালন করতে চায় চাকরী সংক্রান্ত দায়-দায়িত্ব। সুতরাং গণহারে নারীদের সচেতনতায় এক বিশাল পরিবর্তন দেখা দেয়। জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল একে আরও এগিয়ে দেয় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক পরিবারের নারীর পরিকল্পিত পরিবার গঠনকে কার্যকর করা সম্ভব করে দিয়ে।
মেয়েশিশু ও নারীর বিপুল সংখ্যক উচ্চতর শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ এই নারী সচেতনতায় যে অবদান রেখেছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। ১৯৮০ সালে নারী কর্মীদের ভেতর শতকরা ৫৬ ভাগ শিক্ষানবিশ পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করে ফেলে। তুলনায় ঐ পর্যায়ের পুরুষ কর্মীর হার শতকরা ৫৭ ভাগ মাত্র। এর ফলে নারীরা রাষ্ট্র ও প্রাইভেট সেক্টরে কাম্য কর্মী হয়ে ওঠে।
সত্য যে নারীরা আরও বেশি করে পুরুষের সমপর্যায়ের দক্ষতাবিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে কিন্তু তুলনামূলকভাবে অনেক কম মজুরী ও বেতন তাদের দেয়া হয়। বিবাহিত নারীদের নিয়োগ বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে পারিবারিক আয় বৃদ্ধি পায়। কিন্তু একই সাথে সব ধরনের শ্রম শক্তির মূল্য এর আসল মূল্যমানের চেয়ে কয়েক ডিগ্রী নিচে নেমে যায়। আশির দশক থেকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে মজুরী হার হ্রাসের অন্যতম উপাদান এই প্রবণতা। নারীর ক্রমবর্ধমান নিয়োগ পুঁজিবাদী আইনকানুনের হৃদযান্ত্রিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার গতি নির্ধারণ করে এবং সংগ্রামশীল শ্রমজীবীর পারিবারিক সম্পর্কগুলোকে উপেক্ষা করে।

বুর্জোয়া পরিবার প্রথার দীর্ঘস্থায়ী সংকট

১৯৭৫ সাল হতে দীর্ঘস্থায়ী গণবেকারত্ব দেখা দেওয়ায় এবং আশির দশকে সামাজিক সংস্কার তুলে নেওয়ার পদক্ষেপে ব্যাপকহারে গণজীবনে পাতি বুর্জোয়া পারিবারিক সম্পর্কের উদ্ভব ও তা চালিয়ে যাওয়ার প্রথা লোপ পেতে থাকে। সত্তরে দশকের শুরুতে বুর্জোয়া পারিবারিক প্রথার হাতে পুজিবাদী সমাজের সামাজিক ও জীবতাত্ত্বিক পুনর্নির্মাণের ধারা ক্রনিক সংকটে পড়ে। তার কিছু লক্ষণ নীচে উদ্ধৃত করছি:

ঙ ১৯৭২ সাল থেকে জার্মানীতে জন্ম হারের তুলনায় মৃত্যুহার বেড়ে গেছে। এ দেশের অজার্মান পরিবারের জন্মহার বাদ দিলে জন্ম এবং মৃত্যুহারের এ তারতম্য আরও বেশি হবে। ১৯৯৫ সালে জার্মান পরিবারে জন্মহার ছিল প্রতি হাজারে ৯.২। যেখানে অজার্মান পরিবারে এর হার ছিল ১৪.৪। নতুন জার্মানীতে উন্নয়নের প্রভাব বেশ নাটকীয়ই বলতে হয়। সমগ্র ইউরোপের ভেতর একমাত্র জার্মানীতে এখন জন্মহার সবচেয়ে কম।
ঙ ১৯৭২ থেকে বিবাহবিচ্ছেদের (মৃত্যু, তালাক কিম্বা যে কোনও উপায়ে বিয়ে ভাঙ্গা) হার বিবাহবন্ধন হারকে অতিক্রম করে যাচ্ছে শনৈঃ শনৈঃ।
ফলে বিবাহ ও পরিবারকে কেন্দ্রবিন্দু করে বুর্জোয়া সামাজিক নিয়ম শৃঙ্ক্ষলার পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়া প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে পড়ে।
ঙ বুর্জোয়া পারিবারিক পদ্ধতি সুস্থিত করতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নানাধরনের অর্থনৈতিক সহায়তা চালু করা হয়; উদাহরণ স্বরূপ পেনশন বিবেচনার ক্ষেত্রে সন্তান লালন পালন সময়কে গণ্য করা (১৯৮৬), ছোট বাচ্চার বেকার মাতাপিতার জন্য পাবলিক ফান্ড থেকে অর্থসাহায্যের নিয়ম প্রবর্তন(১৯৮৬), ঘরে সেবামূলক কাজের জন্য আর্থিক সাবসিডি(১৯৯৫), শিশুদের কিন্ডারগার্টেনে ভর্তির আইনী অধিকার (১৯৯৬) অথবা শিশুর জন্য আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি ইত্যাদি। একাধিপত্যবাদী সংস্থাগুলো এবং রাষ্ট্র সংকট উত্তরণে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করে তার ভেতর এসব আন্তরিকতাহীন সহায়তা প্রচেষ্টা অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং যে লক্ষ্যে তা গৃহীত হয়েছিল সে লক্ষ্য চ্যুত হয়। বর্তমানে ক্লাসিক পরিবার মুষ্টিমেয় কিছু জার্মানের কাছে কিংবা প্রাপ্তবয়ষ্কদের জীবনের কিছু সময় জুড়ে থাকা একটি গতানুগতিক পারিবারিক জীবন যাপন প্রথারূপেই চলছে। ১৯৯৭ সালে দেখা যায় জার্মানীর মাত্র শতকরা ২৮.২টি ঘরে মাতাপিতা ও সন্তান এই তিনে গড়ে তোলা পরিবার বাস করছে। নিঃসন্তান দম্পতির সংখ্যা শতকরা ২৭.৯ এবং একক ব্যক্তির পরিবার সংখ্যা ৩৬.৫।

বুর্জোয়া পারিবারিক পদ্ধতির এ সংকটের একটি বৈশিষ্ট্য হলো পুঁজিবাদী সমাজ নিজেকে পুনরুৎপাদন করতেই ক্রমে আরও বেশী ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে, গণজীবনের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণে তার ভূমিকার কথা না বলাই শ্রেয়। পুঁজিবাদী অবস্থায় মানবজীবন উৎপাদন ও পুনরুৎপাদনের ক্ষেত্রে তার মধ্যে পরস্পরের প্রতি শত্রুতামূলক বিপরীতধর্মী নানা আলামত প্রকাশ পাচ্ছে এবং তা দূরারোগ্য হয়ে উঠেছে। মজুরী শ্রমিকদের শ্রমক্ষমতা এখন ব্যক্তি পর্যায়ে কেনা ও শোষণ চলছে। উৎপাদনের সংকট এবং কর্মঘণ্টার নমনীয়তার পরিবেশে বিভিন্ন কারখানায় একই পরিবারের নানাজন কাজ করায় পরিবারের ভেতর ব্যক্তিকেন্দ্রিক আচরণ বেড়ে চলেছে। নানা সময়, নিয়ত পরিবর্তনশীল কর্মঘণ্টা, শিফটওয়ারি কাজ, কাজ ও প্রশিক্ষণ উপলক্ষে দূরদেশে ট্রান্সফার এ সবই সাধারণভাবে পারিবারিক জীবন বলতে যে বিষয়টি তাকে প্রশ্নাকীর্ণ করে তোলে। এর ফলে বুর্জোয়া পরিবার পদ্ধতির ভেতর যে আইন মেনে চলার প্রবণতা কাজ করে সেটি আরও দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলতঃ শ্রমজীবীদের ভেতর পরিবারের অনুপস্থিতিই প্রকট হয়ে ওঠে।
ঙ পরিবার পদ্ধতি এবং উৎপাদনের হাতিয়ারের ভেতরকার পারস্পরিক শত্রুতার ফলে শ্রমজীবীদের দরিদ্র হয়ে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়, যা সংস্কার কর্মকাণ্ড শেষ হয়ে যাবার সাথে সাথে উন্মোচিত হয়ে পড়ে। সন্তান উৎপাদনকারী বিবাহ ক্রমে প্রমাণ করছে যে এ পদ্ধতি টিকে থাকায় দিন দিন অসমর্থ হয়ে পড়ছে, সত্যিকার অর্থে এর পরিণাম চূড়ান্ত দারিদ্র্য। পুরনো জার্মান রাষ্ট্রের শতকরা ৩১.৪ ভাগ পরিবার যাদের তিন বা ততোধিক সন্তান রয়েছে বাস করছে দারিদ্র্য সীমার নিচে এবং নতুন রাষ্ট্রে এর হার শতকরা ৪৬.২ ভাগ।
অর্থনৈতিক সংকট, পরিবেশ বিপর্যয়, রাজনৈতিক সমস্যা আসলেই গণমানুষের জীবনের অবস্থাকে কিছু মৌলিক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে এবং ব্যক্তির নিজস্ব জীবন ব্যবস্থাপনা (ব্যক্তি জীবনের যেসব পূবশর্ত নিশ্চিত করা প্রয়োজন তার অবমূল্যায়নের মাধ্যমে) কয়েকগুণ বেশি কঠিন করে তুলেছে। আশির দশকে একাধিপত্যবাদী সংস্থাগুলোর পক্ষে রাষ্ট্র যে সব সংকট নিরসনমূলক কর্মসূচী চালিয়েছে, এ হচ্ছে তার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল। বেকারত্ব, পরিবেশ দূষণ, স্বাস্থ্য সমস্যা ও অর্থনৈতিক বিপন্নতার ফলে পরিবারের বোঝা বহনের ধরনও পাল্টে গেছে। বিগত বছরগুলোতে নারকোটিকস্‌ এ্যালকোহল ও পিলের মতো মারাত্মক মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। একইভাবে বেড়েছে, বিশেষ করে নারীদের ভেতর মানসিক অসুস্থতা। পরিবেশ বিপর্যস্তকারী বিষাক্ত দ্রব্যাদির কারণে, বিশেষতঃ শিশুদের স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়ার হার বেড়েছে নাটকীয়ভাবে। ফেডারেল সরকারের হিসাবমতে ঘরে ঘরে সেবাসুবিধা নেবার লোকের সংখ্যা ১৯৯১ তে যা ছিল ১.৭৫ মিলিয়ন তা ২০১০ এ তা বেড়ে দাঁড়াবে ২.১ মিলিয়নে (ঋবফবৎধষ গরহরংঃৎু ড়ভ খধনড়ঁৎ, ঝবপঃরড়হ১ই৪, রহভড়ৎসধঃরড়হ ঢ়ৎড়ারফবফ ড়হ ঔধহঁধৎু ১৪, ১৯৯৯).
বুর্জোয়া পরিবার পদ্ধতির সংকট অবিভাজ্যভাবেই ব্যাপকসংখ্যক নারীর দ্বিমুখী শোষণ নিবিড়তরকরণ প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত। ১৯৯৮ সালে ফেডারেশন অব জার্মান ইন্ডাস্ট্রিজ তাদের “ভবিষ্যত কর্মসূচী”তে (বিডিআই)খোলাখুলিভাবে “শিরোনামহীন সামাজিক নিরাপত্তা প্রথা” ফের ছেঁটে ফেলার ঘোষণা দেয় এবং “ব্যক্তির ব্যক্তিগত দায়-দায়িত্বের উপর” গুরুত্ব আরোপ করে।
যেসব ক্ষেত্রে একক ব্যক্তি বোঝা কাঁধে নিতে পারবে না কেবলমাত্র সেসব ক্ষেত্রে অন্যরা সহায়তা করতে পারবে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই সহায়তাকারী হবে পরিবার বা বন্ধুরা, ক্ষেত্রবিশেষে তারা হতে পারে কোম্পানী কিংবা চার্চ সমিতি। (ঋহৃৎ বরহ ধঃঃৎধশঃরাবং উবঁঃংপযষধহফ রহ বরহবস বিষঃড়ভভহবহ ঊঁৎড়ঢ়ধ [ঋড়ৎ ধহ ধষঃবৎহধঃরাব এবৎসধহু রহ ধ ঈড়ংসড়ঢ়ড়ষরঃধহ ঊঁৎড়ঢ়ব]চঁনষরংযবফ নু ইউও, ঈড়ষড়মহব, ১৯৯৮, ঢ়.৭১)
প্রায় পাশাপাশি সময়ে তখনকার উইমেন্স এ্যাফেয়ারস্‌ মন্ত্রী ক্লডিয়া নোলটে একটি প্রচারণা শুরু করেন-অনারারি অফিস অর্থাৎ, স্বেচ্ছাসেবা বা ভলান্টারিজম নিয়ে। একই মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী মন্ত্রী ক্রিস্টাইন বার্গমান (এস পি ডি) নোলটের কাজের ওপরই জোর দেন ও এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন:

“অনারারি অফিস বলতে গণতান্ত্রিক এক দায়বদ্ধতাকে বুঝায় এবং একারণেই তারা ভবিষ্যত। এ ব্যাপারে আমার সিদ্ধান্ত অনড়। তারা একটি সমাজের সামাজিক বন্ধন অটুট রাখে।” (হবংিঢ়ধঢ়বৎ ঘবঁব জঁযৎ তবরঃঁহম ড়ভ উবপবসনবৎ ৭, ১৯৯৮)

তার শোষকদের শোষণ বজায় রাখতে পুঁজিবাদনির্ভর করে বুর্জোয়া একক পরিবারের ওপর এবং একইসাথে সে তা ধ্বংসও করে দেয়। পুঁজিবাদে এ বিপরীতধর্মিতা সমাধানের বাইরে। কারণ ব্যক্তিগত পর্যায়ে পুনরুৎপাদন কোনও উপায়েই তিরোহিত হয় না কিম্বা বুর্জোয়া বিবাহ রদের ক্রমবর্ধমান প্রক্রিয়ার সাথে তাল মিলিয়ে তা কমেও আসে না। বিবাহ-লাইসেন্স ছাড়া একত্র বসবাস, অথবা দলবদ্ধভাবে এক ঘরে থাকা যা ব্যক্তি বিকল্প জীবন যাপনরূপে আজকাল বেছে নিচ্ছে তা ব্যক্তি পর্যায়ে পুনরুৎপাদনেরই ভিন্নতর এক বা একাধিক উপায় মাত্র। পুনরুৎপাদনের বাইরে কোনও বিকল্প নেই। বুর্জোয়া পরিবার পদ্ধতি পুঁজিবাদের সামর্থ্যকে শুষে নিয়ে এর কার্যকারিতাকে নিঃশেষ করে এবং একে উত্তরোত্তর অস্থিত করে তোলার অনিবার্য উপাদান হয়ে ওঠে। পুঁজিবাদের সাধারণ সংকটের এক প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে এর এই চরিত্র। কারণ এর মাধ্যমেই ফুটে ওঠে আইনের বেড়াজালে আবদ্ধ পুঁজিবাদী উন্নয়নের নিজের পুনরুৎপাদন নিশ্চিত করার অক্ষমতা এবং এটা সুস্পষ্ট যে, এ পদ্ধতি এখন কেবলমাত্র পুনরোৎপাদন করতে পারে ধ্বংসের ভিত্তিভূমিতে দাঁড়িয়ে। উইলি ডিকহাট পুঁজিবাদের সাধারণ সংকটকে ব্যাখ্যা করেছেন এই বলে:

পুঁজিবাদের সাধারণ সংকট...হচ্ছে সামাজিক পদ্ধতি হিসেবে যে পুঁজিবাদ প্রচলিত তারই সর্বগ্রাসী এক সংকট। এ হচ্ছে পুঁজিবাদী সামাজিক ব্যবস্থার অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আদর্শগত শক্তিসমূহের পতন ও পচন ধরা, অবনত এবং দুর্বলতর হয়ে ক্ষয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি। এ পরিস্থিতি পুঁজিবাদের অন্তিম শয্যায় শয়ন পর্যন্ত চলতে থাকবে। (ডরষষর উরপশযঁঃ, ঈৎরংবং ধহফ ঈষধংং ঝঃৎঁমমষব, ঢ়.১২২)

বুর্জোয়া পরিবার পদ্ধতির এ সংকট উন্নততর উৎপাদন শক্তিসমূহের এক জাতীয় বিদ্রোহের বহিঃপ্রকাশ, এবং এ বিদ্রোহ ঐ পুঁজিবাদী উৎপাদন পদ্ধতি এবং জীবনযাপন অবস্থার বিরুদ্ধে, যা সারা বিশ্বে মানবজাতির অগ্রগতির নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এটি ব্যাপক সংখ্যক কর্মজীবী নারীর বর্ধমান আত্মবিশ্বাসেও প্রতিবিম্বিত। সামাজিক উৎপাদনে অন্তর্ভুক্তিই তাদের এ আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি এবং তা সমাজতন্ত্রের বাস্তব প্রস্তুতির একটি উপাদান হয়ে উঠেছে। সমাজের বৈপ্লবিক বদলের সংগ্রাম তখনই সম্ভব যদি এ সংগ্রাম এক অখণ্ড ঐক্যে গণমানুষের জীবনের বাস্তবতাকে বৈপ্লবিক রূপ দেবার সংগ্রামের সাথে মিলিত হয়।
অধিকন্তু, উৎপাদন শক্তির উন্নয়ন বাস্তবে, মানব জীবনের উৎপাদন ও পুনরুৎপাদন সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশ্নের বাস্তবভিত্তিক সামাজিক সমাধান তৈরী করেছে: অর্থাৎ শিশুদের যত্ন ও শিক্ষার, খাদ্য সরবরাহ, পরিবার পরিকল্পনা,গৃহস্থালি কর্মকাণ্ড, বয়ঃকালীন যত্ন, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ, নিয়ত বর্ধমান দৈনন্দিন বাস্তব প্রয়োজন ও সাংস্কৃতিক চাহিদা নিরূপণের নমনীয়তাসহ উৎপাদন পরিকল্পনা ও উৎপাদন বিতরণ, এবং এ জাতীয় অসংখ্য বিষয়ের সমাধান এ শক্তির আয়ত্তে আছে। আইন নিয়ন্ত্রিত উন্নয়ন সম্পর্কে একশ বছর আগে ফ্রেডেরিক এঙ্গেলস্‌ সংক্ষেপে বলেছেন:

এভাবে একদিকে উৎপাদন শক্তি চালিয়ে নিতে নিজ অসামর্থ্যের দায়ে পুঁজিবাদী উৎপাদন প্রক্রিয়া অভিযুক্ত। অপরদিকে, উৎপাদন শক্তিসমূহ দিন দিন আরও বেশি শক্তি নিয়ে চাপ সৃষ্টি করে চলেছে দ্বন্দ্বগুলো দূর করতে, পুঁজিরূপে তাদের যে চরিত্র নির্ধারিত তা থেকে বেরিয়ে এসে সামাজিক উৎপাদন শক্তিরূপে তাদের যে মৌলিক পরিচয় সে স্বীকৃতি পাওয়ার লক্ষ্যে। (ঊহমবষং, অহঃর-উহৃযৎরহম, ঢ়.৩৫৭)

মার্কস, এঙ্গেলস্‌ এবং নারী ও শ্রমজীবী শ্রেণীর আন্দোলনের মূল উদ্যোক্তাদের কাছে যা ছিল এমন এক বৈজ্ঞানিক অন্তর্দর্শন, যা বাস্তবায়নের নিকটবর্তী কোনও সম্ভাবনা ছিল না, সেখানে আজ পৌঁছা সম্ভব, তা আজ ছোঁয়ার দূরত্বে:

পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় পুরনো পারিবারিক বন্ধন বিলুপ্তি যতই ভয়াবহ এবং অপ্রীতিকর দেখাক না কেন, বলা বাহুল্য নয় যে, দায়িত্ব বন্টনের মাধ্যমে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়া, আধুনিক শিল্প যা করে থাকে, একইভাবে গৃহস্থালীর বাইরে, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নারীকে, তরুণদের এবং নারী পুরুষ উভয় লিঙ্গের শিশুকে দায়িত্ব প্রদান ক’রে, উচ্চতর এক পারিবারিক কাঠামো এবং নারী পুরুষ-আন্তঃসম্পর্কের এক নতুন অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরী করে। (গধৎী, ঈধঢ়রঃধষ, ঠড়ষ. ১, ঢ়ঢ়.৪৮৯-৪৯০)
সমাপ্ত