আইনস্টাইন ও ভারতবর্ষ

সৈয়দ জিয়াউল হক

বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন তাঁর জীবনকালে কখনও ভারতবর্ষে আসেন নি। তবে অনেক বিশিষ্ট ভারতীয়ের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত আলাপ ও চিঠিপত্র বিনিময় হয়েছে। মহাত্মা গান্ধীকে তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন। প্রিন্সটনে আইনস্টাইনের পাঠকক্ষে বিশ্বের চারজন মনীষীর ছবি ঝুলানো ছিল-নিউটন, ফ্যারাডে, ম্যাঙওয়েল এবং গান্ধী। এর মধ্যে গান্ধী ছাড়া বাকী তিনজনই বিজ্ঞানী। আইনস্টাইন বিশ্বাস করতে গান্ধীর অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। ১৯৩১ সালে গান্ধী যখন গোলটেবিল বৈঠকে যোগদানের জন্য লন্ডনে অবস্থান করছিলেন তখন আইনস্টাইন তাঁর কাছে একটি পত্র লেখেন। পত্রে তিনি উল্লেখ করেন, ুণড়ঁ যধাব ংযড়হি নু ধষষ ুড়ঁ যধাব ফড়হব ঃযধঃ বি পধহ ধপযরবাব ঃযব রফবধষ বাবহ রিঃযড়ঁঃ ৎবংড়ৎঃরহম ঃড় ারড়ষবহপব. ডব পধহ পড়হয়ঁবৎ ঃযড়ংব াড়ঃধৎরবং ড়ভ ারড়ষবহপব নু হড়হ-ারড়ষবহঃ সবঃযড়ফ. ণড়ঁৎ বীধসঢ়ষব রিষষ রহংঢ়রৎব ধহফ শববঢ় যঁসধহরঃু ঃড় ঢ়ঁঃ ধহ বহফ ঃড় ধ পড়হভষরপঃ নধংবফ ড়হ ারড়ষবহপব রিঃয রহঃবৎহধঃরড়হধষ যবষঢ় ধহফ পড়-ড়ঢ়বৎধঃরড়হ মঁধৎধহঃববরহম ঢ়বধপব রহ ঃযব ড়িৎষফ. ডরঃয ঃযরং বীঢ়ৎবংংরড়হ ড়ভ সু ফবাড়ঃরড়হ ধহফ ধফসরৎধঃরড়হ ও যড়ঢ়ব ঃড় নব ধনষব ঃড় সববঃ ুড়ঁ ভধপব ঃড় ভধপব.চ
গান্ধী লন্ডন থেকে তাঁর উত্তরে লেখেন, ুও ধিং ফবষরমযঃবফ ঃড় যধাব ুড়ঁৎ নবধঁঃরভঁষ ষবঃঃবৎ. ওঃ রং ধ মৎবধঃ পড়হংড়ষধঃরড়হ ভড়ৎ সব ঃযধঃ ঃযব ড়িৎশ ও ধস ফড়রহম ভরহফং ভধাড়ৎ রহ ুড়ঁৎ ংরমযঃ. ও ফড় রহফববফ রিংয ঃযধঃ বি পড়ঁষফ সববঃ ভধপব ঃড় ভধপব ধহফ ঃযধঃ ঃড়ড় রহ সু ওহফরধ ধঃ সু অংযৎধস.চ
আইনস্টাইন গান্ধীর মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। ১৯৩৯ সালে ২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর ৭০তম জন্মদিন উপলক্ষে প্রিন্সটন থেকে তিনি এক বিবৃতি দেন, এতে আইনস্টাইন উল্লেখ করেন, ুঅ ষবধফবৎ ড়ভ যরং ঢ়বড়ঢ়ষব, ঁহংঁঢ়ঢ়ড়ৎঃবফ নু ধহু ড়ঁঃধিৎফ ধঁঃযড়ৎরঃু; ধ ঢ়ড়ষরঃরপরধহ যিড়ংব ংঁপপবংং ৎবংঃং হড়ঃ ঁঢ়ড়হ পৎধভঃ হড়ৎ ঃযব সধংঃবৎু ড়ভ ঃবপযহরপধষ ফবারপবং, নঁঃ ংরসঢ়ষু ড়হ ঃযব পড়হারহপরহম ঢ়ড়বিৎ ড়ভ যরং ঢ়বৎংড়হধষরঃু; ধ ারপঃড়ৎরড়ঁং ভরমযঃবৎ যিড় যধং ধষধিুং ংপড়ৎহবফ ঃযব ঁংব ড়ভ ভড়ৎপব; ধ সধহ ড়ভ রিংফড়স ধহফ যঁসরষরঃু, ধৎসবফ রিঃয ৎবংড়ষাব ধহফ রহভষবীরনষব পড়হংরংঃবহপু, যিড় যধং ফবাড়ঃবফ ধষষ যরং ংঃৎবহমঃয ঃড় ঃযব ঁঢ়ষরভঃরহম ড়ভ যরং ঢ়বড়ঢ়ষব ধহফ ঃযব নবঃঃবৎসবহঃ ড়ভ ঃযবরৎ ষড়ঃ; ধ সধহ যিড় যধং পড়হভৎড়হঃবফ ঃযব নবঃঃবৎসবহঃ ড়ভ ঃযবরৎ ষড়ঃ; ধ সধহ যিড় যধং পড়হভড়ৎহঃবফ ঃযব নৎঁঃধষরঃু ড়ভ ঊঁৎড়ঢ়ব রিঃয ঃযব ফরমহরঃু ড়ভ ঃযব ংরসঢ়ষব যঁসধহ নবরহম, ধহফ ঃযবংব ধঃ ধষষ ঃরসবং ৎরংবহ ংঁঢ়বৎরড়ৎ এবহবৎধঃরড়হং ঃড় পড়সব, রঃ সধু বিষষ নব, রিষষ ংপধৎপব নবষরবাব ঃযধঃ ংঁপয ধ ড়হব ধং ঃযরং বাবৎ রহ ভষবংয ধহফ নষড়ড়ফ ধিষশবফ ঁঢ়ড়হ ঃযরং বধৎঃয.চ
দুঃখের বিষয় উভয়ের তরফ থেকে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও আইনস্টাইন ও গান্ধীজির মধ্যে কখনও দেখা সাক্ষাৎ ঘটে নি। তবে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু ১৯৪৯ সালে আইনস্টাইনের সঙ্গে প্রিন্সটনে সাক্ষাৎ করেন। নেহরু প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পূর্বে এবং পরে বেশ কয়েকবার তাঁর সঙ্গে আইনস্টাইনের পত্রবিনিময় হয়। এ সকল পত্রে তাঁরা রাজনীতি ও বিশ্বশান্তি বিষয়ে মতামত বিনিময় করতেন। ১৯৪৭ সালে আইনস্টাইন নেহরুর কাছে সাত পৃষ্ঠার এক দীর্ঘ পত্র লেখেন। পত্রে তিনি ইহুদী এবং ভারতের অস্পৃশ্য সমপ্রদায়ের সাদৃশ্যের বিষয় উল্লেখ করেন। পত্রে আইনস্টাইন উল্লেখ করেন, ুগধু ও ঃবষষ ুড়ঁ ড়ভ ঃযব ফববঢ় বসড়ঃরড়হ রিঃয যিরপয ও ৎবধফ ৎবপবহঃষু ঃযধঃ ঃযব ওহফরধহ ঈড়হংঃরঃঁবহঃ অংংবসনষু যধফ ধনড়ষরংযবফ ঁহঃড়ঁপযধনরষরঃু. ...চ
নেহরু পাঁচ পৃষ্ঠাব্যাপী এক উত্তরে উল্লেখ করেন, ুওঃ রং ধ ঢ়ৎরারষবমব ধহফ ধহ যড়হড়ঁৎ ঃড় নব ধফফৎবংংবফ নু ুড়ঁ ধহফ ও ধিং যধঢ়ঢ়ু ঃড় ৎবপবরাব ুড়ঁৎ ষবঃঃবৎ, ঃযড়ঁময ঃযব ংঁনলবপঃ রং ধ ংধফ ড়হব.চ
নেহরু পরবর্তীতে উল্লেখ করেছেন যে আইনস্টাইনের সঙ্গে দেখা হওয়ার ফলে তাঁর জীবনের একটি দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে। সেদিনের আলোচনা ভারতবর্ষের ভবিষ্যৎ দিক নির্দেশনার বিষয়েও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।
রবীন্দ্রনাথ ও আইনস্টাইনের মধ্যে মোট চারবার সাক্ষাৎ ঘটে। রবীন্দ্রনাথ ১৯২১ ও ১৯২৬ সালে দু’বার জার্মানী সফর করেন। এর মধ্যে দ্বিতীয় জার্মানী সফরের সময় ১৯২৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আইনস্টাইনের সাথে তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে। সাক্ষাৎকারটি অনুষ্ঠিত হয় কাপুথে আইনস্টাইন ভিলায়। ঐ দিন সকালে রবীন্দ্রনাথের সম্মানে জার্মানীর সাংস্কৃতিক মন্ত্রী বেকার একটি চা-চক্রের আয়োজন করেন। আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন আলবার্ট আইনস্টাইন। আইনস্টাইন ছাড়াও অনুষ্ঠানে জার্মানীর অনেক বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক উপস্থিত ছিলেন। একই দিন বিকেলে আইনস্টাইন রবীন্দ্রনাথকে চা-চক্রে আপ্যায়িত করেন। রবীন্দ্রনাথ ও আইনস্টাইনের এক সাক্ষাৎকারের কথোপকথনের বিবরণ ১০ আগস্ট নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এর প্রতিবেদক ছিলেন জার্মানীর বিখ্যাত সাংবাদিক দিমিত্রি মারিয়ানফ। মারিয়ানফ লিখেছেন যে, রবীন্দ্রনাথ কবি হলেও তাঁর মন ছিল চিন্তাবিদের, আর আইনস্টাইন চিন্তাবিদ হয়েও মনের দিক দিয়ে ছিলেন কবি। তিনি রবীন্দ্রনাথ ও আইনস্টাইনের মধ্যকার এই সাক্ষাৎকারকে দুই গ্রহের কথোপকথনের সঙ্গে তুলনা করেন।
১৯৩০ সালের জুলাই মাসে রবীন্দ্রনাথ আবার জার্মানী সফর করেন এবং ১৪ জুলাই আইনস্টাইনের বাসভবনে তাঁদের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো সাক্ষাৎ ঘটে। আইনস্টাইন তখন বার্লিনের কাইজার ভিলহেলম ফিজিক্যাল ইনস্টিটিউটের পরিচালক এবং বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক। কবি ও বিজ্ঞানীর মধ্যে সেদিন অনুষ্ঠিত দীর্ঘ আলোচনার সময়ে উপস্থিত ছিলেন কবি অমিয় চক্রবর্তী। তাঁদের মধ্যে তৎকালীন বিশ্বপরিস্থিতি, সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি এবং ইহুদী ও ফিলিস্তিনী সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। রবীন্দ্রনাথ ও আইনস্টাইনের মধ্যে তৃতীয়বার সাক্ষাৎ ঘটে ১৯৩০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। তাঁদের মধ্যে চতুর্থবার এবং শেষবার দেখা হয় ১৯৩০ সালের ডিসেম্বর মাসে আমেরিকার নিউ ইয়র্কে। সেবার রবীন্দ্রনাথ নিউ ইয়র্কে এক চিত্রশিল্পীর বাসায় আতিথ্য গ্রহণ করেছিলেন এবং আইনস্টাইন সেই বাসায় এসে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা করেন। আইনস্টাইন ও রবীন্দ্রনাথের মধ্যে সাক্ষাৎকার ছাড়াও দু’জনের মধ্যে অনেকবার পত্র বিনিময় হয়। রবীন্দ্রনাথকে জার্মান ভাষায় স্বহস্তে লেখা আইনস্টাইনের দু’টি চিঠি শান্তি-নিকেতনের রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত আছে। রবীন্দ্রনাথ ও আইনস্টাইন দু’জন দুই ভিন্ন পথের যাত্রী। তবে প্রত্যেকে ছিলেন স্ব স্ব ক্ষেত্রে দীপ্যমান। একজন সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক আর একজন সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক। গার্টুর্ড ইমারসন তাঁর ঞযব এড়ষফবহ ইড়ড়শ ড়ভ ঞধমড়ৎবএ উল্লেখ করেছেন, ুওঃ পধসব ঃড় সব ঃযধঃ ঃযড়ঁময ঃযবু ঃৎধাবষ নু ফরভভবৎবহঃ ৎড়ধফং, ংঁৎবষু ঃযব বহফ ঃযবু ংববশ রং ড়হব. ঞযব রহঃধহমরনষব নড়হফ ষরহশরহম ঃযবংব ঃড়ি মৎবধঃ সবহ ভৎড়স ঃযব ঊধংঃ ধহফ ভৎড়স ঃযব ডবংঃ রং ঃযব নড়হফ ড়ভ ঢ়বৎংড়হধষ ংঁৎৎবহফবৎ ঃড় ঃযব ঃরসবষবংং ধহফ ঃযব বঃবৎহধষ.চ
ভারতের অনেক বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের সঙ্গে পত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে মত বিনিময় করতেন। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সত্যেন বোস ও আইনস্টাইনের মধ্যকার পত্র বিনিময়, যার ফলস্বরূপ প্রকাশিত হয় বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান। বস্তুত আইনস্টাইনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক চিরস্থায়ী হয়ে আছে বোস-আইনস্টাইন সংখ্যাতত্ত্বের মাধ্যমে। এই উপমহাদেশের বিজ্ঞানের আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র সত্যেন্দ্রনাথ বসু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯২১ সালের ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রীডার পদে যোগদান করেন এবং ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২৪ বছর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। তাঁর কার্যকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগটি
আন্তর্জাতিক মর্যাদা লাভ করে। সত্যেন বসু আইনস্টাইনের কাছে ১৯২৪ সালে ৪ জুন, ১৫ জুন ও ২৬ অক্টোবর ৩টি চিঠি লেখেন। তিনি আইনস্টাইনের কাছে সর্বশেষ পত্র লেখেন ১৯২৫ সালের ২৭ জানুয়ারী। ১৯২৪ সালে সত্যেন বোস তাঁর লিখিত চষধহপশ্থং খধ িধহফ ঃযব খরমযঃ-য়ঁধহঃঁস ঐুঢ়ড়ঃযবংরং এবং ঞযবৎসধষ ঊয়ঁরষরনৎরঁস রহ ঃযব জধফরধঃরড়হ ঋরবষফ রহ ঃযব চৎবংবহপব ড়ভ গধঃঃবৎ শীর্ষক দু’টি প্রবন্ধ আইনস্টাইনের কাছে প্রেরণ করেন। আইনস্টাইন প্রবন্ধ দু’টি পড়ে চমৎকৃত হন এবং জার্মান ভাষায় অনুবাদ করে জার্মানীর বিখ্যাত তবরঃংপযৎরভঃ ভঁৎ চযুংরশ জার্নালে প্রকাশ করেন। আইনস্টাইন সত্যেন বসুর সংখ্যাতত্ত্ব নিয়ে কাজ শুরু করেন, যার ফলশ্রুতি বোস-আইনস্টাইন সংখ্যাতত্ত্ব। সত্যেন বসু এক ধরনের ভরহীন কণার ধারণা প্রকাশ করেন যেগুলোর ধর্ম একই রকম। তাঁর নামানুসারে এই কণাগুলোর নামকরণ করা হয় ‘বোসন’। আইনস্টাইন বোসন নিয়ে গবেষণা করে প্রমাণ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার নীচে সবগুলো বোসন তাদের সর্বনিম্ন শক্তিস্তরে অবস্থান করে। এই অবস্থাকে বোস-আইনস্টাইন ঘনীভবন (ইড়ংব-ঊরহংঃবরহ ঈড়হফবহংধঃরড়হ) নামকরণ করা হয়। পরবর্তীতে এই বোস-আইনস্টাইন ঘনীভবন তত্ত্ব পরীক্ষামূলকভাবে প্রমাণ করার ফলশ্রুতিতে ২০০১ সালে ব্রিক এ কর্নেল, উল্‌ফ গ্যাং কেটেরি এবং কার্ল ই ভিয়েম্যান নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
১৯২৫ সালের নভেম্বর মাসে বার্লিনে আইনস্টাইন ও সত্যেন বসুর মধ্যে সাক্ষাৎ ঘটে। আইনস্টাইন তখন থাকতেন ৫নং হাবেরল্যান্ড স্ত্রাস-এ। এ বছর কয়েকবার সত্যেন বসু আইনস্টাইনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পদার্থ বিজ্ঞানের নানা বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। তাঁদের আলাপের মাধ্যম ছিল ইংরেজী। ১৯২৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক পদের জন্য বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। সত্যেন বসু ঐ পদের জন্য আবেদন করেন এবং রেফারেন্স হিসেবে আলবার্ট আইনস্টাইনের নাম উল্লেখ করেন। আইনস্টাইন সত্যেন বসু-এর জন্য সুপারিশ পাঠান। সুপারিশে আইনস্টাইন উল্লেখ করে, ‘এস. এন. বোস-এর সঙ্গে পরিচয়ের পর আমার এই ধারণা হয়েছে যে, তিনি এমন একজন মানুষ, যার কাছে বিজ্ঞান আরও অনেক কিছু আশা করে।’