ধানজুড়ি

রাহেল রাজিব

[ফুলবাড়ি কয়লাখনি আন্দোলনে শহীদদের প্রতি]

ধানজুড়ির কালো নগ্ন পায়ের ধাবমান মূর্তির সামনে দাম্ভিক কয়লা বণিক
শেয়ালের লুকানো থাবার ধর্ম-নাম করায়ত্ত,
কয়লার কঠিনত্বে আটকা ক্ষুধার্ত হায়েনার হিংস্র দৃষ্টি
সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অন্ধকার ফুঁড়ে উঠে আসে কালো কালো নগ্ন পা
‘বুকসি প্রতিশব্দ বাংলাদেশ’ অভিধানে নতুন শব্দ সংযোজনা।
অশোকের জ্ঞাতিধ্বংসের শেষচিহ্ন আমি, আমার জীবিকা,
আমার নিরাপত্তা, আমার স্বদেশ, আমার রাজত্ব।
কানসাট-শনির আখড়া হয়ে হায়েনার ধাবমান দৃষ্টি খুঁজে ফেরে
চাঁদপাড়ার তরিকুলের তাজা রক্ত।
আমাদের বাণিজ্যে আপনাকে স্বাগতম : অর্থ বিত্ত সম্মান সম্ভোগ, কী চাই?
মুখ ফুটে একবার বলুন!
দু’কাঠা জমির আলিশান অট্টালিকার ভাড়ায় কিনেছি তোমার স্ত্রী-কন্যার যৌবন,
সাথে পায়ের তলার মাটি।

‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’;
ইংরেজি ইস্কুলে পিটির সমস্বর কানে বাজে
পাঁচ বছরের উচ্চশিক্ষা পারে নি দিতে সাম্যবাদে খড়ি
পাঁচ মিনিটের তিনটা গুলি ধরিয়ে দিল সাম্যবাদের দড়ি।
বাবলু জামান বাবু মাস্টার আর কালো কালো মুখ উঠে আসে ক্যামেরায়
জানান দেয় গোধূলিবেলার সূর্য
নুরু টেম্পু ফেলে, ফরিদ রিকসা ফেলে, রহমান সরিষা ক্ষেত ফেলে উঠে আসে;
উঠে আসে বাংলাদেশ, উঠে আসে সময়
মিছিলে সামিল তিতুমীর-ভবানী-ফরায়িজী-বীরসা, মার্ঙ-লেনিন-চে-কাস্ট্রো,
সুভাষ-গান্ধী-ম্যান্ডেলা-সূর্যসেন-প্রীতিলতা-ভাসানী-জাহানারা-আসাদ-ইলামিত্র
এবং কোটি সহস্র কালো কালো নগ্ন পা।
শীতল মুর্মু, লক্ষ্মণ, বুনচি, সনৎ, সুনীল, শংকর, বগীর কালো নগ্ন পা ধাবমান
শকুনি বেষ্টিত বেনিয়ার দিকে।
আমি ঠায় দাঁড়িয়ে নিশ্চল পাথর যমুনার ব্রিজে,
নদীর দু’পার ঠাঁই দেয় নি এই আমাকে।