পুঁজির সূত্র, বিরোধ ও শ্রমশক্তি

আনু মুহাম্মদ

শ্রম প্রক্রিয়া এবং উদ্বৃত্ত মূল্য উৎপাদন-প্রক্রিয়া

ব্যবহার মূল্য সৃষ্টি বা একটি নির্দিষ্ট পণ্য উৎপাদনের জন্যই পুঁজিপতি শ্রমশক্তি ক্রয় করে। শ্রমশক্তি সক্রিয় হয় শ্রমদানকারীর মাধ্যমে। নির্দিষ্ট সামাজিক ব্যবস্থায় এর রূপ ভিন্ন ভিন্ন হয়। মার্কস সামাজিক ব্যবস্থা নির্বিশেষে প্রথমে আলাদা করে শ্রম প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করেছেন। পরে নির্দিষ্টভাবে তাকে শনাক্ত করেছেন পুঁজিবাদী উৎপাদন প্রক্রিয়ার ভেতর।
মার্কস বলছেন, শ্রম হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে মানুষ এবং প্রকৃতি উভয়ই অংশগ্রহণ করে। আর মানুষই তার ও প্রকৃতির মধ্যেকার এই সম্পর্ক শুরু করে, নির্ধারণ করে এবং যাবতীয় প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। মানুষ তার হাত পা মস্তিষ্কসহ নিজের সকল প্রাকৃতিক শক্তি ব্যবহার করে, তার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকৃতি থেকে দ্রব্যাদি আহরণের জন্য। তার ফলে তার বহিঃস্থ দুনিয়ার উপর ক্রিয়া করে মানুষ যেমন তাকে পরিবর্তিত করে, তেমনি একই প্রক্রিয়ায় সে নিজের প্রকৃতিকেও পরিবর্তিত করে।
যখন আমরা স্বভাবজাত প্রবৃত্তি হিসেবে শ্রমকে বিবেচনা করি তখন মানুষের শ্রম আর অন্য যে কোন প্রাণীর শ্রমের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না। মার্কস আরও বলছেন, একটা মাকড়সা যেভাবে কাজ করে তার সাথে একজন তাঁতীর কাজের সাদৃশ্য আছে। মৌমাছি যেভাবে চাকের ক্ষুদ্র কোষগুলো তৈরী করে তা একজন স্থপতিকেও লজ্জায় ফেলে দিতে পারে। কিন্তু যা একটি দক্ষ মৌমাছির সাথে একজন অদক্ষ স্থপতিরও পার্থক্য তৈরি করে তা হল, একজন স্থপতি বাস্তবে তার নির্মাণের বহু আগেই কল্পনায় তার সৃষ্টি নির্মাণ করে। প্রতিটি শ্রম প্রক্রিয়ার শেষে আমরা এমন একটি ফল পাই যা শ্রমদানকারীর কল্পনায় আগেই তৈরী হয়েছে। সে শুধু যা নিয়ে কাজ করে সেই বস্তুর রূপ পরিবর্তন করে তাই নয়, সে একটা নিয়মের অধীনেও নিজের ইচ্ছাকে স্থাপন করে। কাজের প্রকৃতির প্রতি তার আগ্রহ যত বেশি থাকে তত তার মনোযোগদান ঘটে থাকে এবং তত সে আনন্দবোধ করে এবং তা তার শারীরিক মানসিক ক্ষমতা প্রয়োগে কম চাপ সৃষ্টি করে।
শ্রম প্রক্রিয়ার প্রাথমিক উপাদান হল তিনটি: ১. মানুষের ব্যক্তিগত সক্রিয়তা বা কাজ, ২. এই কাজের বিষয়, এবং ৩. এই কাজ করবার হাতিয়ারসমূহ। মাটি পানিসহ প্রকৃতি টিকে থাকে মানুষের অস্তিত্বনিরপেক্ষভাবে এবং মানুষকে তার প্রয়োজনীয় টিকে থাকার সামগ্রী যোগান দেয়। এই প্রকৃতি মানুষের শ্রমপ্রয়োগের বিশ্বজনীন ক্ষেত্র। মানুষ তার নিকটতম প্রাকৃতিক জগত থেকে নিজের শ্রম দিয়ে অনেক প্রয়োজনীয় দ্রব্যই আহরণ করে। পানি, কাঠ, মাছ, ফল, লোহা সবই এর মধ্যে পড়ে। অনেক দ্রব্য আছে যেগুলো আগের শ্রম দিয়ে প্রস্তুত কিন্তু এখন আবার নতুন শ্রমের ক্ষেত্র; এরকম দ্রব্যকেই আমরা বলি কাঁচামাল। সব কাঁচামালই শ্রমের ক্ষেত্র, কিন্তু সব শ্রমের ক্ষেত্রই কাঁচামাল নয়। শ্রমের হাতিয়ার একটি দ্রব্য বা দ্রব্যসমষ্টি যা শ্রমিক তার এবং শ্রমের ক্ষেত্রের মধ্যে যোগাযোগে ব্যবহার করে। মানুষ যখন প্রকৃতি থেকে কোনকিছু আহরণ করে তখন সে তার শরীরেরই কোন না কোন অঙ্গ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। তার ফলে শ্রমিক প্রথম যার মালিকানা লাভ করে তা শ্রমের ক্ষেত্র নয়, বরং শ্রমের হাতিয়ার।
মানুষের সক্রিয়তার একটি অঙ্গ তাই হয়ে ওঠে প্রকৃতি, যা মানুষ নিজের শরীরের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য করে ফেলে। এই পৃথিবী যেমন মানুষের আদি খাদ্যভাণ্ডার, তেমনি এটিই তার আদি গৃহ। এটি আবার তাকে ছোঁড়ার জন্য, গুঁড়া করবার জন্য, কাটা বা চাপ দেবার জন্য পাথর যোগান দেয়। সেজন্য প্রাচীন গুহায় আমরা পাথরের অনেক হাতিয়ার বা অস্ত্র পাই। সব মিলিয়ে পৃথিবী নিজেই শ্রমের একটি হাতিয়ারও।
আবার যখন কৃষিকাজ হয় তখন মানুষের কাজে অনেক নতুন ধরনের হাতিয়ার যুক্ত হয় এবং শ্রমেরও তুলনামূলকভাবে অনেক উন্নয়ন ঘটে। সেকারণে মানুষের ইতিহাসের আদিপর্বে বিশেষভাবে নির্মিত পাথর, কাঠ, হাড় ছাড়াও শ্রমের হাতিয়ার হিসেবে বিশেষ ভূমিকা পালন করে গৃহপালিত পশুও। শ্রমের হাতিয়ারের সহযোগে মানুষের সক্রিয়তা বস্তুর রূপান্তর ঘটায় শ্রম প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। উৎপাদিত নতুন দ্রব্যের মধ্যে এই প্রক্রিয়ার অবসান ঘটে, দ্রব্যটি আবির্ভূত হয় ব্যবহার মূল্য হিসেবে। এর মধ্যে দিয়ে প্রকৃতির বস্তু রূপান্তরিত হয়ে মানুষের ব্যবহার উপযোগী দ্রব্যে পরিণত হয়। শ্রম তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়, শ্রম দ্রব্যায়িত হয়, আর আগের দ্রব্য রূপান্তরিত হয়। যে শ্রম একটি গতিশীল প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করে সেটি নির্দিষ্ট গুণ নিয়ে একটি দ্রব্যে স্থিত হয়।
মার্কস বলছেন, শ্রমের হাতিয়ার ও শ্রমের ক্ষেত্র দুটোই উৎপাদনের উপকরণ। আর এখানে শ্রম উৎপাদনশীল শ্রম। যদিও ব্যবহার মূল্য শ্রম প্রক্রিয়ারই ফসল, কিন্তু এর মধ্যে উৎপাদন উপকরণ হিসেবে কাজ করে পূর্বতন শ্রমের ফসল, অন্য কোন ব্যবহার মূল্য। একই ব্যবহার মূল্য একদিকে যেমন পূর্বের শ্রমের ফসল অন্যদিকে তেমনি পরবর্তী প্রক্রিয়ায় এটি উৎপাদন উপকরণ। উৎপাদিত দ্রব্য তাই শুধু ফলাফল নয়, শ্রমের একটি প্রয়োজনীয় শর্তও। শুধুমাত্র খনি, শিকার, মাছ ধরা এবং আদি পর্যায়ের কৃষি ছাড়া অন্যসব শিল্পই আগের শ্রমে উৎপাদিত কাঁচামাল পরিবর্তনের কাজ করে। কৃষিক্ষেত্রে বীজও তাই। এমনকি পশু ও অনেক গাছপালা, ফল যেগুলো প্রকৃতিরই সম্পদ সেগুলোর অনেককিছুর বর্তমান রূপ ঠিক কিছু আগের শ্রমের ফসল না হলেও দীর্ঘদিনে মানুষের শ্রমে তদারকিতে ধীর রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এই পর্যায়ে এসেছে।
প্রত্যেক দ্রব্যের মধ্যেই একইসঙ্গে অনেকগুলো গুণ থাকে। একই দ্রব্য বিভিন্ন উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কাঁচামাল হিসেবে কাজে লাগতে পারে। যেমন একই শস্য বিভিন্ন জায়গা, যেমন শস্য ভাঙানোর কল, রুটি কারখানা, পশুখাদ্য প্রস্তুতকারক একেক জায়গায় একেক উদ্দেশ্যে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়ায় গরু হচ্ছে কাঁচামাল আবার একই গরু গোবর উৎপাদনের হাতিয়ার। আঙুর এমন এক ফল যা আহরণের সঙ্গে সঙ্গে ভোগ করা সম্ভব আবার একই সঙ্গে এটি ওয়াইন বানানোর ক্ষেত্রে একটি কাঁচামাল। কাজেই কোন একটি ব্যবহার মূল্য কাঁচামাল হিসেবে কাজে লাগবে নাকি শ্রমের উপকরণ হিসেবে কাজে লাগবে নাকি উৎপাদিত দ্রব্য হিসেবে কাজে লাগবে তা বস্তুত নির্ভর করে শ্রম প্রক্রিয়ায় এর ভূমিকার উপর, এর অবস্থানের উপর।
শ্রমপ্রক্রিয়া যখন পুঁজিপতির দখলে আসে তখন তার দুটো বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। প্রথমত, শ্রমিক কাজ করে পুঁজিপতির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে, যার দখলেই তার শ্রম। দ্বিতীয়ত, তার শ্রমে উৎপাদিত দ্রব্যের মালিকও পুঁজিপতি। শ্রম প্রক্রিয়া ক্রয়ের মাধ্যমে পুঁজিপতি যা করে, তা হলো জীবন্ত শ্রমকে সে যুক্ত করে উৎপাদিত দ্রব্যের প্রাণহীন উপাদানের সঙ্গে। তার দিক থেকে শ্রম প্রক্রিয়া কিনে-নেওয়া একটি পণ্য অর্থাৎ শ্রমশক্তি ভোগ ছাড়া আর কিছু নয়। কিন্তু উৎপাদনের উপায় যোগান না-দেয়া পর্যন্ত এই শ্রমশক্তি ভোগ কোন কাজে লাগবে না। ক্রয়কৃত বিভিন্ন দ্রব্যের মধ্যে শ্রম প্রক্রিয়াও একটি প্রক্রিয়া যার মালিক পুঁজিপতি। সুতরাং উৎপাদিত দ্রব্যেরও মালিকও সে-ই।

উদ্বৃত্ত মূল্যের উৎপাদন

জুতা বা কাপড় যাই হোক, পুঁজিপতি দখলকৃত দ্রব্যটি একটি ব্যবহার মূল্য। যদিও এসব উৎপাদন প্রগতির লক্ষণ এবং পুঁজিপতি ‘প্রগতিবাদী’ হিসেবেই পরিচিত, তারপরও পুঁজিপতি নিছক ব্যবহার মূল্য উৎপাদনের জন্যই উৎপাদন করে না। তারা এই ব্যবহার মূল্য উৎপাদনে ততক্ষণ রাজি থাকে যতক্ষণ তা বিনিময় মূল্যের আধার হিসেবে কাজ করে।১ পুঁজিপতির দিক থেকে দুটো লক্ষ্য থাকে। এক. সে এমনকিছু উৎপাদন করতে চায় যার বিক্রয় মূল্য আছে অর্থাৎ যেটি একটি পণ্য। এবং দুই. সে এমন একটি পণ্য উৎপাদন করতে চায় যার মূল্য তার উৎপাদনে ব্যবহৃত উৎপাদনের উপায় ও শ্রমশক্তির মোট মূল্য থেকে অধিক হবে।
মার্কস এখানে উৎপাদনকে মূল্যসৃজন প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করে তৎকালীন সময়ে একটি সাধারণ ঐকমত্যের উল্লেখ করছেন। সেটি হল, প্রতিটি পণ্যের মূল্য নির্ধারিত হয় এটি উৎপাদনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সামাজিক পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় শ্রমসময়ে ব্যয়িত শ্রমের পরিমাণ দিয়ে।২ মার্কস উদাহরণ হিসেবে তুলা থেকে সুতা উৎপাদনে শ্রম প্রক্রিয়া ও মূল্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। বলছেন, সুতার উৎপাদনে কতটা শ্রম যুক্ত হচ্ছে তা নির্দিষ্ট করতে গেলে এর কাঁচামাল তুলার উৎপাদনে কতটা শ্রম কাজ করেছে সেটাও হিসাব করতে হবে। যে টাকু সুতা বানানোর যন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় সেটি উৎপাদনে যে শ্রমসময় লেগেছে সেটাও একই কারণে বিবেচনায় আনতে হবে।
শ্রমিক যখন কাজ করে তখন তার শ্রম অবিরাম একটি পরিবর্তন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যায়: ক্রমে তা গতি থেকে গতিহীন একটি বস্তুতে পরিণত হয়। সক্রিয় শ্রম থেকে এটি পরিণত হয় উৎপাদিত দ্রব্যে। একঘণ্টা সুতাবোনার পর একঘন্টার সেই শ্রম সুতার মধ্যে যুক্ত হয়। একঘণ্টার এই শ্রম সব সামাজিক ও প্রযুক্তিগত অবস্থায় এক হয় না। তুলা থেকে সুতা উৎপাদনের প্রতিটি পর্ব ব্যাখ্যা করে মার্কস দেখাচ্ছেন, যদি অন্যসব উপাদানের মতো শ্রমের মূল্যও পুরোপুরি পরিশোধ করা হয় তাহলে পুঁজিপতি হতাশ হয়ে আবিষ্কার করতে পারে যে, সে যা বিনিয়োগ করেছে সেই টাকাই ফেরৎ আসছে। এর মধ্যে থেকে কোন উদ্বৃত্ত মূল্যই তৈরী হচ্ছে না।৩
পুঁজিপতি এখানে নিশ্চয়ই বলবে, ‘কেন তাহলে আমি এই টাকা বিনিয়োগ করলাম। আমি তো আরও টাকা বানানোর জন্যই এই বিনিয়োগ করেছি। অন্যকোথাও বিনিয়োগ করলে তো আমার লাভ হতো। তা না করে আমি এই উৎপাদনশীল কাজে টাকা খাটিয়েছি। সুতা বানিয়েছি। এই সুতা তো আমার কোন কাজে লাগবে না। আমি তো বিক্রির জন্যই এগুলো বানিয়েছি।’ মূল্যসৃজনে বা দ্রব্যউৎপাদনে শ্রমের ভূমিকা সম্পর্কে পুঁজিপতি প্রশ্ন উত্থাপন করে বলবে, ‘খালি হাত আর পা দিয়ে শ্রমিক কি শূন্যের উপর কোনোকিছু তৈরী করতে পারে? তাকে কি আমি সব সরঞ্জাম আর প্রয়োজনীয় সব দ্রব্যাদি যোগান দেই নি যার কারণে সে তার শ্রম দিতে পেরেছে? আমি কি সমাজকে আমার উৎপাদনের যন্ত্রপাতি, আমার সুতা আমার টাকু দিয়ে অপরিমেয় সেবা দেইনি? শুধু সমাজকে নয়, সেই সাথে শ্রমিককে কি আমি তার জীবনের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি যোগান দেইনি? আর আমার এতসব সেবার বিনিময়ে আমার জন্য কি কিছুই থাকবে না? কিছুই পাবো না আমি?’৪ তার সহযোগীদের কাজও ভুলে গিয়ে পুঁজিপতি আরও বলবে, ‘আমি নিজে কি এত কাজ করিনি? আমি কি সব কাজ দেখাশোনা করিনি? এই কাজ কি মূল্য সৃষ্টি করে না?’
শ্রমের মূল্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মার্কস বলছেন, ধরে নেই, একদিনের শ্রমশক্তির দাম ৩ শিলিং। শ্রমশক্তির উৎপাদনে প্রয়োজনীয় টিকে থাকার সামগ্রী সংগ্রহের জন্য সেই পরিমাণ অর্থ লাগে। অর্ধেকদিনের শ্রমই এই পরিমাণ শ্রমশক্তি তৈরি করে। কিন্তু সেই শ্রমশক্তির মধ্যে যুক্ত পুরনো শ্রম আর বর্তমানে ক্রিয়ারত শ্রম হিসাব করলে আমরা দেখবো টিকে থাকার সামগ্রী আর শ্রমের চলতি খরচ সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রথমটি শ্রমশক্তির বিনিময় মূল্য নির্ধারণ করছে, আর দ্বিতীয়টি নির্ধারণ করছে তার ব্যবহার মূল্য। শ্রমশক্তির মূল্য আর শ্রম প্রক্রিয়ায় এই শ্রমশক্তি যে মূল্য তৈরি করে এই দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিমাপ। এবং শ্রমশক্তি ক্রয়ের সময় এই দুইএর পার্থক্যকেই পুঁজিপতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়। যা তাকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে তা হল এই পণ্যের নির্দিষ্ট ব্যবহার মূল্য যা শুধু মূল্যের উৎস নয়, তা একইসঙ্গে তার চাইতে অধিক মূল্য সৃষ্টিরও উৎস।
শ্রমশক্তির কাছ থেকে পুঁজিপতি আশা করে এই বিশেষ সেবা এবং এই লেনদেনে সে পণ্য বিনিময়ের ‘শাশ্বত বিধি’ অনুযায়ীই কাজ করে। শ্রমশক্তির বিক্রেতা অন্য যে কোন পণ্যবিক্রেতার মতোই সাধারণভাবে তার শ্রমশক্তির বিনিময় মূল্য আর এর আংশিক ব্যবহার মূল্য উশুল করে। ডিলারের কাছে তেল বিক্রি করে দেবার পর যেমন তেলের কোন ব্যবহার মূল্য আর সেই তেলবিক্রেতার থাকে না, তেমনি বিক্রি করে দেবার পর শ্রমিকের কাছে শ্রমশক্তির, অন্যকথায় শ্রমের কোন ব্যবহার মূল্য থাকে না। টাকার মালিক একদিনের শ্রমশক্তির মূল্য পরিশোধ করেছে অর্থাৎ একদিনের শ্রমের মালিকানা তার। পরিস্থিতি তখন এরকম দাঁড়ায় যে, অর্ধেকদিনের শ্রমের মূল্য দিয়ে একদিনের শ্রমশক্তির টিকে থাকার খরচ উঠে যায়, কিন্তু সেই শ্রমশক্তি দিনভরই কাজ করে যায়। তারফলে একদিনে তা যে-মূল্য সৃষ্টি করে, তা পুঁজিপতি যে-মূল্য পরিশোধ করে তার দ্বিগুণ। এটি ক্রেতার জন্য নিশ্চয়ই খুব সুবিধাজনক অবস্থা। মার্কস উদাহরণ দিয়ে দেখাচ্ছেন মোট উৎপাদন ব্যয় যখন ২৭ শিলিং তখন তা সৃষ্টি করছে ৩০ শিলিং মূল্য। এর মধ্যে দিয়ে ৩ শিলিং বাড়তি বা উদ্বৃত্ত মূল্য তৈরী হচ্ছে। এভাবেই টাকা রূপান্তরিত হচ্ছে পুঁজিতে।
এখানে বিনিময়ের কোন শর্তই ভঙ্গ করা হয়নি। বিনিময় হয়েছে সমানুপাতেই। ক্রেতা হিসেবে পুঁজিপতি সবগুলো পণ্যেরই মূল্য পরিশোধ করেছে। তুলা, টাকু এবং শ্রমশক্তি সব কিছুরই। তারপর অন্য ভোক্তারা যা করে সে তাই করেছে, এসব পণ্যের ব্যবহার মূল্য ভোগ করেছে। পণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ায় শ্রমশক্তির ভোগ উৎপন্ন করেছে ২০ পাউন্ড সুতা, যার মূল্য ৩০ শিলিং। আগে যে পণ্যের ক্রেতা ছিলো সেই পুঁজিপতি এখন বাজারে হাজির হয়েছে পণ্য বিক্রেতা রূপে, সুতা বিক্রি করছে প্রতি পাউন্ড ১৮ পেন্স দরে, এর মধ্যে দিয়ে আগে যা ব্যয় করেছে তার থেকে অতিরিক্ত ৩ শিলিং তুলে নিচ্ছে। টাকা থেকে পুঁজির এই রূপান্তর বা মেটামরফসিস একইসঙ্গে সঞ্চালন স্তর ও তার বাইরে ঘটে থাকে। সঞ্চালন স্তরে ঘটে, কারণ বাজারে শ্রমশক্তি ক্রয়ের মধ্য দিয়েই তা সূচিত হয় আর এর বাইরে ঘটে কারণ উদ্বৃত্ত মূল্যসৃজন আসলে ঘটে থাকে উৎপাদন পর্যায়েই।
অতীতের শ্রমকে মৃতশ্রম আখ্যায়িত করে মার্কস বলছেন, এর সঙ্গে জীবন্ত শ্রমকে যুক্ত করে পুঁজিপতি তার টাকাকে পণ্যে রূপান্তর করে এবং এই প্রক্রিয়ায় তার টাকা পুঁজিতে রূপান্তরিত হয়ে সৃষ্টি হয় অধিক মূল্য, একটি দানব যা খুবই উপযোগী এবং যা অবিরাম মূল্য বর্ধন করে চলে গুণিতক হারে। তিনি বলছেন, আমরা যদি মূল্য উৎপাদন ও উদ্বৃত্ত মূল্য সৃষ্টি এই দুটো প্রক্রিয়াকে তুলনা করি তাহলে দেখবো দ্বিতীয়টি একটি নির্দিষ্ট বিন্দুর পর প্রথমটির ধারাবাহিকতা ছাড়া আর কিছু নয়। একদিকে বিবেচনা করলে শ্রম প্রক্রিয়া ও মূল্যসৃষ্টি প্রক্রিয়ার ঐক্যের মধ্যে দিয়ে তৈরি হয় পণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়া, অন্যদিকে শ্রম প্রক্রিয়া ও উদ্বৃত্ত মূল্যসৃষ্টি প্রক্রিয়ার ঐক্যের মধ্যে দিয়ে তৈরি হয় পণ্যের পুঁজিবাদী উৎপাদন অথবা পুঁজিবাদী উৎপাদন প্রক্রিয়া।

অপরিবর্তনীয় পুঁজি এবং পরিবর্তনীয় পুঁজি

শ্রম প্রক্রিয়ার বিভিন্ন উপাদান উৎপাদিত দ্রব্যের মূল্য গঠনে বিভিন্ন ভূমিকা পালন করে থাকে। এই উৎপাদনের উপায়ের মূল্য অপরিবর্তিতভাবে থাকে এবং তা উৎপাদিত নতুন পণ্যের মূল্যের একটি অংশ গঠন করে। আগের আলোচনার সূত্র ধরে বলা যায়, তুলা ও টাকুর মূল্য সুতার মূল্যের মধ্যে পুনরায় আবির্ভূত হয়। এই স্থানান্তর ঘটে এই উপায়গুলোর একটি দ্রব্যে রূপান্তরের মধ্যে, অন্য কথায় শ্রম প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। আর এটি নিয়ে আসে শ্রমই। কিন্তু কীভাবে?
দুটো কাজ অর্থাৎ উৎপাদনের উপায়ের মূল্য রক্ষা করা ও নতুন মূল্য যোগ করা, শ্রমিক একইসঙ্গে করে না। বস্তুত নতুন মূল্য যোগ করেই সে ঐগুলোর পুরনো মূল্য রক্ষা করে। এই এক কাজের মধ্য দিয়েই দুটো কাজ হয়। প্রতিটি ব্যবহার মূল্য অদৃশ্য হয়ে যায় শুধুমাত্র নতুন রূপে নতুন ব্যবহার মূল্য হিসেবে আবির্ভূত হবার জন্য। বিশেষ ধরনের শ্রম বা উৎপাদনশীল শ্রমের স্পর্শেই মৃত উৎপাদনের উপায় হয়ে ওঠে শ্রম প্রক্রিয়ার জীবন্ত অংশ এবং একসঙ্গে মিলে তা নতুন দ্রব্য উৎপাদন করে।
মার্কস এই পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের উৎপাদন উদাহরণসহ বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, উৎপাদনের উপায়সমূহ কখনোই শ্রম প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে যতটা তার নিজের ব্যবহার মূল্য হারায়, তার থেকে বেশি মূল্য নতুন দ্রব্যে যোগ করে না। এরকম কোন উৎপাদনের উপায় যদি দেখা যায় যা মানুষের শ্রম থেকে উৎপাদিত নয়, যার মূল্য হারাবার কিছু নেই, যেমন প্রকৃতি প্রদত্ত মাটি, বাতাস, পানি বা ধাতব দ্রব্য তাহলে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় এগুলো কোন মূল্য স্থানান্তর করবে না।
উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কোন কোন উৎপাদন উপায় পুরোটাই যুক্ত হয়, কোন কোনটির যুক্ত হয় এক ভগ্নাংশ। যেমন কোন যন্ত্র যখন ব্যবহৃত হয় তার মেয়াদ যদি হয় ১০০০ দিন তাহলে প্রতিদিন তার ১০০০ ভাগের ১ ভাগ মূল্য যুক্ত হবে নতুন উৎপাদিত দ্রব্যের সাথে। এখানে মার্কস আবার এটাও উল্লেখ করেছেন যে, ঐ যন্ত্রটি যখন আবার মেরামত হবে তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি পর্যায় তৈরি হবে যেখানে যন্ত্রটি মোটেই তখন উৎপাদনের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে না, শ্রম তখন তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে না, বরং তার উপর প্রযুক্ত হচ্ছে। মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় এই শ্রম তার উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমের সঙ্গে হিসাব করে তার মূল্য পরিমাপ করবার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
যখন উৎপাদনশীল শ্রম উৎপাদনের উপায়কে পরিবর্তিত করে একটি নতুন দ্রব্যের উপাদানে পরিণত করছে তখন এগুলোর মূল্যেরও ঘটছে নতুন দেহে নতুন জীবনপ্রাপ্তি। মার্কস যে শব্দটি ব্যবহার করেছেন সেটি হল, মেটেমসাইকোসিস অর্থাৎ মৃত্যুর পর জীবাত্মার দেহান্তরপ্রাপ্তি। মূল্যের ক্ষেত্রেও ঘটছে তাই। এটি পুরনো শরীর ছেড়ে তখন নতুন শরীরে ভর করে। এতসব ঘটনা ঘটে, কিন্তু শ্রমিকের ক্ষেত্রে তার রূপ হয় ভিন্ন। শ্রমিক নিজের পুরনো শরীর রক্ষা না করে, পুরনো মূল্য রক্ষা না করে নতুন শ্রম বা নতুন মূল্য যোগ করতে পারে না। সুতরাং জীবন্ত শ্রমের এই বৈশিষ্ট্য, অর্থাৎ একইসঙ্গে পুরনো মূল্য রক্ষা আবার নতুন মূল্য সৃষ্টি, এটি প্রকৃতি প্রদত্ত। এর জন্য শ্রমিককে বাড়তি কোন খরচ করতে হয় না, কিন্তু তা পুঁজিপতির জন্য খুবই সুবিধাজনক। যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যবসাবাণিজ্য ঠিক থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত লাভ সংগ্রহে ব্যস্ত পুঁজিপতির জীবন্ত শ্রমের এই ভূমিকা বা গুরুত্ব খেয়াল করবার দরকার হয় না, দরকার হয় যখন কোন সংকটে পতিত হয়ে শ্রম প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয় তখনই।
একদিকে উৎপাদনের উপায়, অন্যদিকে শ্রমশক্তি এই দুটো বস্তুত ভিন্ন দুই জগত। পুঁজির আদিরূপ শ্রম প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে পুঁজিতে রূপান্তরিত হবার ধারায় এই দুটোকে সমন্বিত করে। পুঁজির সেই অংশকে মার্কস অপরিবর্তনীয় পুঁজি বলছেন, যাকে প্রতিনিধিত্ব করে-উৎপাদনের উপায়, কাঁচামাল অর্থাৎ যেগুলো শ্রমের উপায় বা সহযোগী দ্রব্যাদি। এগুলো উৎপাদন প্রক্রিয়ার মধ্যে গিয়ে মূল্যের কোন পরিমাণগত পরিবর্তন করে না। সেজন্য মার্কস এটাকে বলছেন পুঁজির অপরিবর্তনীয় অংশ বা সংক্ষেপে অপরিবর্তনীয় পুঁজি।
অন্যদিকে পুঁজির যে-অংশকে প্রতিনিধিত্ব করে শ্রমশক্তি, তা উৎপাদন প্রক্রিয়ার মধ্যে গিয়ে মূল্যের পরিবর্তন ঘটায়। এটি একইসঙ্গে নিজ মূল্যের সমতুল্য সৃষ্টি করে, আবার অতিরিক্ত মূল্য বা উদ্বৃত্ত মূল্যও যোগ করে। যা পরিস্থিতি অনুযায়ী উঠানামা করতে পারে। পুঁজির এই অংশ অবিরাম অপরিবর্তনীয় থেকে পরিবর্তনীয় পরিমাণের দিকে যেতে থাকে। সেজন্য মার্কস এটাকে বলছেন পুঁজির পরিবর্তনীয় অংশ বা সংক্ষেপে পরিবর্তনীয় পুঁজি।
অন্যদিকে পুঁজির এই দুটো অংশ ভিন্ন ভিন্ন দিক থেকেও দেখেছেন মার্কস। বলছেন, শ্রম প্রক্রিয়ার দিক থেকে দেখলে উৎপাদনের উপায় হল বস্তুগত আর শ্রমশক্তি হল আত্মগত। একই উপাদানগুলোকে আবার উদ্বৃত্ত মূল্য উৎপাদন প্রক্রিয়ার দিক থেকে দেখলে পাওয়া যাবে যথাক্রমে অপরিবর্তনীয় ও পরিবর্তনীয় পুঁজি।
যেকোন দ্রব্যের মতো তুলারও মূল্য নির্ধারিত হয় তার মধ্যে অন্তর্গত শ্রম দিয়ে, কিন্তু এই শ্রমের পরিমাণও নির্ধারিত হয় নির্দিষ্ট সামাজিক শর্ত দ্বারা। এখানে মার্কস ‘সামাজিকভাবে প্রয়োজনীয় শ্রম’ ধারণা দিয়ে একটি নির্দিষ্ট সামাজিক পরিস্থিতি, প্রযুক্তিগত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমের অবস্থান নির্দিষ্ট করেছেন। বলেছেন, কাঁচামালের মূল্য যদি পরিবর্তন হয়, যদি ব্যবহৃত যন্ত্রের কর্মক্ষমতা পরিবর্তিত হয় তাহলে উৎপাদিত দ্রব্যে তার অংশের মূল্যও পরিবর্তিত হবে। যদি নতুন কোন আবিষ্কারে নতুন কোন যন্ত্র কাজে লাগানো হয় তাহলে শ্রমের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় কম খরচ হতে পারে। তাহলে উৎপাদিত দ্রব্যেও কম মূল্য স্থানান্তরিত হবে। কিন্তু এখানেও এ যন্ত্রের মূল্য পরিবর্তন ঘটেছে উৎপাদনের উপায় হিসেবে কাজ করতে গিয়ে নয়, উৎপাদিত হতে গিয়ে।
প্রযুক্তিগত পরিবর্তনে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। এমন হতে পারে যে, আগে যে কাজ করতে দশজন লাগতো, একটি দামী যন্ত্র নিয়ে একজন তার থেকে বেশি উৎপাদন করতে পারছে। এক্ষেত্রে অপরিবর্তনীয় পুঁজির অর্থাৎ উৎপাদনের উপায়ে নিয়োজিত পুঁজির উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে, আর সেই সাথে হ্রাস ঘটেছে পরিবর্তনীয় পুঁজির অর্থাৎ শ্রমশক্তিতে বিনিয়োজিত পুঁজির।
যাই হোক, মার্কস বলছেন, এরকম একটি বিপ্লবী ঘটনা অপরিবর্তনীয় ও পরিবর্তনীয় পুঁজির পরিমাণগত সম্পর্কেরই কেবল পরিবর্তন ঘটিয়েছে বা মোট পুঁজির মধ্যে এগুলোর আপেক্ষিক বা আনুপাতিক পরিবর্তন সৃষ্টি করেছে। কিন্তু কোনভাবেই তা এইদুটোর আবশ্যিক পার্থক্যকে পরিবর্তন করে নি।

তথ্যসূত্র

১. মার্কস তৎকালীন সময়ে ইংরেজী ভাষায় শ্রমের দুধরনের ব্যবহার নির্দেশ করেছেন। সাধারণ শ্রম প্রক্রিয়া যা দিয়ে ব্যবহার মূল্য তৈরী হয় তাকে বলা হয় কাজ বা ওয়ার্ক; আর যে শ্রম প্রক্রিয়া বিনিময় মূল্য সৃষ্টি করে তাকে নির্দিষ্টভাবে বলা হয় শ্রম বা লেবার।
২. বলে রাখা দরকার যে, পরবর্র্তীতে উপযোগবাদীরা এর কঠোর বিরোধিতা করেন এবং তাদের দ্বারা মূল্যনির্ধারণে শ্রমের ভূমিকা পুরোপুরি অস্বীকৃত হয়।
৩. মার্কস এখানে ফিজিওক্র্যাটদের কথা উল্লেখ করে বলছেন, তাঁরাও কৃষি বাদে বাকি সব খাতে নিয়োজিত শ্রমকে অনুৎপাদনশীল বলেছেন কেননা সেগুলো তখন কোন উদ্বৃত্ত মূল্য তৈরী করে নি।
৪. সমাজে সেবাদান প্রসঙ্গে মার্কস এখানে জার্মান ধর্ম ও সমাজ সংস্কার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথারের ১৫৪০ সালে লেখা ব্যঙ্গাত্মক কিছু বাক্য স্মরণ করেছেন। লুথার বলেছেন,‘এই সমাজে কতরকম সেবা (সার্ভিস) আমরা দেখি। একজন ঘোড়াচালক মহাসড়কে ডাকাতিতে সেবাদান করছে, রোমান পোপ আমাদের বিরাট উপকার করছে সবাইকে খুন না করে বা সবাইকে ডুবিয়ে বা পুড়িয়ে না মেরে জেলে পচার ব্যবস্থা করে। শয়তানও সমাজে কম সেবাদান করছে না।’